সংবাদ তরঙ্গ ডেস্ক : খ্রিস্টান ধর্মে শিক্ষার গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর ও ব্যাপক। বাইবেলে জ্ঞান ও প্রজ্ঞাকে ঈশ্বরের দান হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। “জ্ঞানই শক্তি” — এই ধারণা খ্রিস্টান বিশ্বাসে শুধু পার্থিব উন্নতির জন্য নয়, বরং আত্মিক বিকাশের জন্যও অপরিহার্য। ঈশ্বরকে জানা, তাঁর ইচ্ছা বোঝা এবং সেই অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার জন্য শিক্ষার প্রয়োজন। যীশু খ্রিস্ট নিজে ছিলেন এক মহান শিক্ষক। তিনি উপমা ও উপদেশের মাধ্যমে মানুষকে নৈতিকতা, ভালোবাসা, ক্ষমা, ত্যাগ ও সত্যের পথ শিখিয়েছেন। তাঁর শিক্ষা মানুষকে শুধু ধর্মীয় আচরণে নয়, বরং মানবিক গুণাবলিতে পরিপূর্ণ করে তোলে। বাইবেলের বাণী অধ্যয়নের মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের প্রেম ও ন্যায়বিচারের স্বরূপ উপলব্ধি করতে পারে। খ্রিস্টান ধর্মে শিক্ষা মানুষকে অন্ধ বিশ্বাস থেকে মুক্ত করে সচেতন ও দায়িত্বশীল বিশ্বাসী হিসেবে গড়ে তোলে। বাইবেলের বিভিন্ন স্থানে বলা হয়েছে, “জ্ঞানীর হৃদয় প্রজ্ঞা অনুসন্ধান করে।” অর্থাৎ, বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্তি ও জ্ঞানের সমন্বয় ঘটানোই খ্রিস্টীয় শিক্ষার মূল লক্ষ্য। ইতিহাসে দেখা যায়, খ্রিস্টান চার্চ ও মিশনারিরা শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে তারা সাধারণ মানুষের মধ্যে শিক্ষা ও নৈতিকতার আলো ছড়িয়ে দিয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বহু বিজ্ঞানী, দার্শনিক ও মানবসেবক গড়ে উঠেছেন, যারা সমাজের কল্যাণে কাজ করেছেন। সবশেষে বলা যায়, খ্রিস্টান ধর্মে শিক্ষা মানুষের চরিত্র গঠন, নৈতিকতা বিকাশ ও ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার প্রধান মাধ্যম। শিক্ষা মানুষকে সত্যের পথ দেখায়, অন্যায় থেকে দূরে রাখে এবং প্রেম, সহানুভূতি ও শান্তির বাণী বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে অনুপ্রাণিত করে।