সংবাদ তরঙ্গ ডেস্ক : বৌদ্ধ ধর্মে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। বুদ্ধদেব মানুষের দুঃখের মূল কারণ হিসেবে অজ্ঞতা বা অবিদ্যাকে চিহ্নিত করেছেন। এই অবিদ্যা দূর করার একমাত্র উপায় হলো শিক্ষা ও প্রজ্ঞার অর্জন। তাই বৌদ্ধ ধর্মে শিক্ষা শুধু পার্থিব জ্ঞান লাভের মাধ্যম নয়, বরং আত্মিক মুক্তির পথপ্রদর্শক। গৌতম বুদ্ধ তাঁর উপদেশে বারবার বলেছেন যে মানুষকে নিজে চিন্তা করতে হবে, অনুসন্ধান করতে হবে এবং সত্যকে উপলব্ধি করতে হবে। অন্ধ বিশ্বাস নয়, বরং জ্ঞান ও যুক্তির আলোতেই সত্যকে গ্রহণ করতে হবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি বৌদ্ধ ধর্মকে এক গভীর শিক্ষাভিত্তিক ধর্মে পরিণত করেছে। বুদ্ধের অষ্টাঙ্গিক মার্গের মধ্যেও “সম্যক দৃষ্টি” ও “সম্যক চিন্তা” শিক্ষার গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। বৌদ্ধ শিক্ষার মূল লক্ষ্য হলো শীল, সমাধি ও প্রজ্ঞার বিকাশ। শীল মানুষের নৈতিক চরিত্র গঠন করে, সমাধি মনকে একাগ্র ও স্থির করে এবং প্রজ্ঞা বাস্তবতার সত্য রূপ উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। এই তিনটির সমন্বয়ে মানুষ দুঃখের কারণ বুঝতে পারে এবং নির্বাণের পথে অগ্রসর হতে সক্ষম হয়। বৌদ্ধ সংঘ বা বিহারগুলো প্রাচীনকাল থেকেই শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। নালন্দা, বিক্রমশীলা, সোমপুর মহাবিহার প্রভৃতি প্রতিষ্ঠান শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, দর্শন, যুক্তিবিদ্যা, চিকিৎসা ও বিজ্ঞান শিক্ষারও কেন্দ্র ছিল। এখান থেকে জ্ঞান ছড়িয়ে পড়েছে সমগ্র এশিয়াজুড়ে। সবশেষে বলা যায়, বৌদ্ধ ধর্মে শিক্ষা মানুষের অন্তর্দৃষ্টি জাগ্রত করে, তাকে কুসংস্কার ও অজ্ঞতা থেকে মুক্ত করে এবং করুণা, মৈত্রী ও প্রজ্ঞায় পরিপূর্ণ জীবন গঠনে সহায়তা করে। জ্ঞানই মানুষকে সত্যের পথে নিয়ে যায় এবং সেই সত্য উপলব্ধির মাধ্যমেই চূড়ান্ত মুক্তি লাভ সম্ভব।