সংবাদ তরঙ্গ ডেস্ক : হিন্দু ধর্মে শিক্ষা শুধু জ্ঞানার্জনের মাধ্যম নয়, বরং আত্মউন্নতি ও আত্মজাগরণের পথ। প্রাচীন ভারতীয় দর্শনে “বিদ্যা”কে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে যাওয়ার সোপান হিসেবে দেখা হয়েছে। উপনিষদের বাণী— “তমসো মা জ্যোতির্গময়”—অর্থাৎ অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে চলো, শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্যকে সুন্দরভাবে প্রকাশ করে। হিন্দু ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে শিক্ষা মানুষের ভিতরের অজ্ঞতা দূর করে এবং তাকে সত্য, ন্যায় ও ধর্মের পথে পরিচালিত করে। গুরু-শিষ্য পরম্পরা ছিল শিক্ষাব্যবস্থার মূল ভিত্তি। গুরুর কাছ থেকে শুধু পুঁথিগত বিদ্যা নয়, চরিত্রগঠন, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও আত্মসংযমের শিক্ষাও লাভ করা হতো। বেদ, উপনিষদ, গীতা, রামায়ণ ও মহাভারত—এই সব গ্রন্থে জ্ঞানের মহিমা বারবার তুলে ধরা হয়েছে। ভগবদ্গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, জ্ঞান সকল পবিত্রতার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। কারণ জ্ঞানই মানুষকে কর্মফল, কর্তব্য ও জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য সম্পর্কে সচেতন করে। হিন্দু দর্শনে চারটি পুরুষার্থের মধ্যে ‘ধর্ম’ ও ‘মোক্ষ’ অর্জনের জন্য শিক্ষাকে অপরিহার্য মনে করা হয়েছে। শিক্ষা মানুষকে কেবল জীবিকা অর্জনের যোগ্য করে তোলে না, বরং তাকে সৎ, দয়ালু ও দায়িত্ববান মানব হিসেবে গড়ে তোলে। সুতরাং বলা যায়, হিন্দু ধর্মে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। এটি মানুষের বুদ্ধি, নৈতিকতা ও আত্মাকে বিকশিত করে এবং তাকে সত্য ও মুক্তির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করে।