সংবাদ তরঙ্গ ডেস্ক : ইসলামে শিক্ষার গুরুত্ব অত্যন্ত ব্যাপক ও মৌলিক। ইসলাম মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে জ্ঞান অর্জনকে ফরজ ও অপরিহার্য হিসেবে ঘোষণা করেছে। কুরআনের প্রথম অবতীর্ণ আয়াতেই আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “পড়ো তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা আলাক: ১) — এই আয়াতের মাধ্যমে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, ইসলামের সূচনাই হয়েছে জ্ঞানের আহ্বান দিয়ে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরজ।” (ইবনে মাজাহ)। ইসলামে শিক্ষা শুধু ধর্মীয় জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং দুনিয়াবি ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের উপকারী জ্ঞান অর্জনের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। একজন শিক্ষিত মানুষ সঠিকভাবে আল্লাহকে চিনতে পারে, তাঁর বিধান বুঝতে পারে এবং সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারে। অজ্ঞতা মানুষকে কুসংস্কার, অন্যায় ও বিভ্রান্তির দিকে ঠেলে দেয়, আর শিক্ষা মানুষকে সত্য ও সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করে। রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজেও শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি সাহাবায়ে কেরামকে নিয়মিত শিক্ষা দিতেন এবং বন্দী কাফেরদের মুক্তির বিনিময়ে মুসলমান শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। ইসলামের স্বর্ণযুগে মুসলমানরা জ্ঞান-বিজ্ঞানে এত অগ্রসর হয়েছিলেন যে, গণিত, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিজ্ঞান, দর্শনসহ বহু শাখায় তারা বিশ্বকে পথ দেখিয়েছেন। অতএব, ইসলাম শিক্ষা ও জ্ঞানকে মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধির প্রধান মাধ্যম হিসেবে দেখেছে। ইহকালীন উন্নতি ও পরকালীন মুক্তি—উভয়ের জন্যই শিক্ষা অপরিহার্য। একজন মুসলমানের কর্তব্য হলো আজীবন জ্ঞান অন্বেষণে নিয়োজিত থাকা এবং সেই জ্ঞানকে মানবকল্যাণে কাজে লাগানো।