সংবাদ তরঙ্গ ডেস্ক : প্রায় তিন হাজার বছর আগে মানুষ যে কেবল বেঁচে থাকার কথাই ভাবতো এমন নয়। তারা কীভাবে ভালোভাবে বাঁচবে, স্বাভাবিকভাবে চলবে, নিজের মর্যাদা ধরে রাখবে, সেই চিন্তাও তাদের ছিল। Cairo Toe সেই চিন্তারই এক অসাধারণ প্রমাণ। লুক্সরের কাছে Sheikh Abd el-Qurna কবরস্থানে পাওয়া কাঠ ও চামড়া দিয়ে তৈরি এই কৃত্রিম বড় আঙুলটি দেখে প্রথমেই যে বিষয়টি চোখে পড়ে, তা হলো মানুষের বুদ্ধির গভীরতা। এটি কোনো প্রতীকী বস্তু ছিল না। এটি সত্যিকার অর্থেই ব্যবহার করা হতো। হাঁটার সময় শরীরের ভারসাম্য ঠিক রাখা, পায়ের চাপ সহ্য করা এবং স্যান্ডাল পরার সুবিধা,,,, সবকিছু মাথায় রেখেই এটি তৈরি করা হয়েছিলো। এখানেই বিস্ময়। এতো বছর আগে, আধুনিক বিজ্ঞান, এক্স-রে বা থ্রিডি মডেলিং ছাড়াই তারা জানতো বড় আঙুল মানুষের হাঁটার জন্য কতোটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই তারা এমন একটি কৃত্রিম আঙুল বানিয়েছিলো, যা শুধু দেখতে আসল আঙুলের মতো নয়, কাজেও কার্যকর। এতে একাধিকবার মাপ ঠিক করার চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা বোঝায় ব্যবহারকারীর আরাম ও চলাফেরার সুবিধাকে গুরুত্ব দিয়ে এটি বারবার সংশোধন করা হয়েছিলো। একটু কল্পনা করলেই বিষয়টা পরিষ্কার হয়। আজ যদি কারও পায়ের বড় আঙুল না থাকে, সে ঠিকভাবে হাঁটতে পারে না, জুতা পরতে কষ্ট হয়, আত্মবিশ্বাসেও ঘাটতি আসে। এখন যেমন আধুনিক prosthetic দিয়ে সেই সমস্যা সমাধান করা হয়, ঠিক তেমনই তিন হাজার বছর আগে একজন মানুষ নিজের স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে Cairo Toe ব্যবহার করেছিলেন। এতে বোঝা যায়, তখনকার মানুষ শুধু শরীরের ক্ষত ঢাকতে চাননি, তারা জীবনকে স্বাভাবিক ও সম্মানজনক রাখতে চেয়েছিলেন। এই Cairo Toe আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রাচীন মিশরীয়রা শুধু পিরামিড বানানোর কৌশলই জানতো না, তারা মানবদেহ, নড়াচড়া এবং আরাম সম্পর্কেও গভীর জ্ঞান রাখত। তাদের চিন্তাশক্তি, পর্যবেক্ষণ আর কারিগরি দক্ষতা আজকের চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসকেও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। Cairo Toe তাই শুধু একটি কৃত্রিম আঙুল নয়। এটি প্রমাণ করে, হাজার হাজার বছর আগেও মানুষের মস্তিষ্ক ছিল তীক্ষ্ণ, সহানুভূতিশীল এবং আশ্চর্য রকম উন্নত। জীবনকে সহজ, সুন্দর আর সম্মানের সাথে বাঁচার চেষ্টা তখনও মানুষের ভেতরে ঠিক আজকের মতোই সক্রিয় ছিল।