সংবাদ তরঙ্গ ডেস্ক : নিশ্চয়ই। উদ্যোক্তা হওয়া মানে শুধু ব্যবসা শুরু করা নয়, বরং নিজের আইডিয়া, উদ্যম এবং নেতৃত্ব দিয়ে একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা বা উদ্যোগ গড়ে তোলা। উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য করণীয়গুলো ধাপে ধাপে বিশ্লেষণ করা হলো
১. নিজের আগ্রহ ও দক্ষতা চিহ্নিত করা: উদ্যোক্তা হিসেবে সাফল্য পেতে হলে প্রথমে নিজের আগ্রহ, দক্ষতা এবং শক্তি চিহ্নিত করতে হবে। কোন ক্ষেত্রে ভালো? (টেকনোলজি, কৃষি, শিক্ষা, ফ্যাশন, হসপিটালিটি ইত্যাদি) কোন কাজে আগ্রহ বেশি থাকে? যেটা ভালো লাগে, সেটিতে উদ্যোক্তা হওয়া সহজ।
২. বাজার গবেষণা (Market Research): ব্যবসা শুরু করার আগে বাজার ভালোভাবে বিশ্লেষণ করা আবশ্যক। কোন পণ্য বা সেবার চাহিদা বেশি। প্রতিযোগীরা কারা এবং তারা কীভাবে কাজ করছে। গ্রাহকের সমস্যা এবং প্রস্তাবিত সমাধান। বাজারের অবস্থা: স্থানীয়, অনলাইন নাকি আন্তর্জাতিক।
৩. ব্যবসায়িক ধারণা ও পরিকল্পনা তৈরি: ব্যবসায়িক আইডিয়া নিশ্চিত করা: পণ্য বা সেবা গ্রাহকের জন্য কেন মূল্যবান হবে?
বিজনেস প্ল্যান (Business Plan) তৈরি করা: লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, টার্গেট কাস্টমার, পণ্যের ধরন বা সেবা বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। বিপণন (Marketing) এবং বিক্রয় (Sales) কৌশল জানতে হবে।
আর্থিক পরিকল্পনা: প্রাথমিক বিনিয়োগ, খরচ, লাভ এর একটি হিসাব পরিকল্পনার মধ্যে থাকতে হবে।
৪. প্রাথমিক অর্থায়ন (Funding): উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যবসা শুরু করতে ধনায়ন গুরুত্বপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে নিজের সঞ্চয় ব্যবহার করা যেতে পারে। বন্ধু বা পরিবারের সহায়তা এবং ব্যাংক ঋণ বা লোন নেয়া যেতে পারে। এছাড়া ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বা এঞ্জেল ইনভেস্টর, সরকারি বা বেসরকারি স্টার্টআপ স্কিম গ্রহন করা যেতে পারে।
৫. প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন: উদ্যোক্তা হতে হলে কিছু মৌলিক দক্ষতা থাকা জরুরি: নেতৃত্ব ও দল পরিচালনার (Leadership & Team Management) দক্ষতা,যোগাযোগ ও পেশাদারী নেটওয়ার্কিং তৈরি, সময় ব্যবস্থাপনা ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ, বিপণন ও বিক্রয় কৌশল লব্দ করা, সমস্যা সমাধান এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দৃঢ়তা অর্জন করা।
৬. উদ্যোগ শুরু ও প্রয়োগ: ব্যবসা শুরু করার জন্য অফিস/অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। পণ্য বা সেবা উৎপাদন ও লঞ্চ। ছোট পরিসরে পরীক্ষা করা এবং গ্রাহকের প্রতিক্রিয়া নেওয়া। প্রয়োজনে আইডিয়া বা পণ্য উন্নত করা।
৭. বিপণন ও বিক্রয়: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (Social Media) ব্যবহার করা। অফলাইন মার্কেটিং (বিজ্ঞাপন, প্রদর্শনী, ইভেন্ট), গ্রাহক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করা। ব্র্যান্ড গঠন (Branding) ও বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা।
৮. অধ্যবসায়, ধৈর্য ও ঝুঁকি নেওয়া: উদ্যোক্তা হওয়া সহজ নয়, ব্যর্থতার সম্ভাবনা থাকে। ঝুঁকি নেওয়া শিখতে হবে এবং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। নিয়মিত কাজ করা এবং আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা।
৯. নিজের নেটওয়ার্ক তৈরি করা: অন্যান্য উদ্যোক্তা, মেন্টর বা ব্যবসায়িক নেতাদের সাথে সংযোগ স্থাপন। ব্যবসার সুযোগ ও সহযোগিতা পাওয়ার জন্য নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা।
১০. নতুনত্ব ও উদ্ভাবন: বাজারে নতুন ধারনা আনতে হবে। ক্রমাগত নিজের পণ্য বা সেবার মান বৃদ্ধি করা, প্রতিযোগিতার মধ্যে টিকে থাকতে উদ্ভাবনী হওয়াও জরুরি। উদ্যোক্তা হওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো – নিজের আগ্রহ ও দক্ষতা চিহ্নিত করা, বাজার বুঝা, পরিকল্পনা তৈরি, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন, অর্থায়ন, উদ্যোগ শুরু, বিপণন ও বিক্রয়, অধ্যবসায় ও ধৈর্য, নেটওয়ার্কিং এবং উদ্ভাবনী মনোভাব।