কিভাবে আধুনিক পোল্ট্রি খামার গড়ে তুলবেন

সংবাদ তরঙ্গ ডেস্ক : আধুনিক পোল্ট্রি খামার গড়ে তুলতে হলে পরিকল্পনা, সঠিক প্রযুক্তি, উন্নত জাত, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও বাজার ব্যবস্থার সমন্বয় প্রয়োজন। নিচে ধাপে ধাপে বিষয় গুলো আলোচনা করা হলো।

১. পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নির্ধারণ: প্রথমে ঠিক করতে হবে—ব্রয়লার (মাংস উৎপাদন) নাকি লেয়ার (ডিম উৎপাদন) খামার হবে। খামারের আকার (৫০০, ১০০০, ৫০০০ বা তার বেশি পাখি)। পুঁজি, জমি ও বাজারের চাহিদা কতটুকু আছে জানতে হবে।

২. স্থান নির্বাচন ও অবকাঠামো: উঁচু, শুকনা ও বন্যামুক্ত জমি নির্বাচন করতে হবে।বসতবাড়ি থেকে কিছুটা দূরে হতে হবে। পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। শেডটি আধুনিক শেড (Open house বা Closed house) হতে হবে। স্বয়ংক্রিয় ফিডার, ড্রিংকার, ভেন্টিলেশন ও লাইটিং সিস্টেম থাকতে হবে।

৩. উন্নত জাত নির্বাচন: ব্রয়লার: Cobb-500, Ross-308, Hubbard এসকল জাতের হতে পারে। লেয়ার: ISA Brown, Lohmann Brown, Hy-Line জাত ভালো। এসব জাত দ্রুত বৃদ্ধি ও বেশি উৎপাদনশীল।

৪. খাদ্য ব্যবস্থাপনা: স্টার্টার, গ্রোয়ার ও ফিনিশার ফিডের সঠিক ব্যবহার জানতে হবে।প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ খাদ্য হতে হবে। বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ (স্বয়ংক্রিয় নিপল ড্রিংকার) নিশ্চিত করতে হবে।

৫. তাপমাত্রা ও পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ: বাচ্চা অবস্থায় ৩২–৩৪° সেলসিয়াস তাপ প্রয়োগ করতে হবে। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমাতে হবে। আর্দ্রতা ও বাতাস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। গ্যাস, গন্ধ ও ধুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

৬. রোগ প্রতিরোধ ও বায়োসিকিউরিটি: নির্ধারিত টিকাদান কর্মসূচি প্রতিনিয়ত মানতে হবে। জীবাণুনাশক দ্বারা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। বাহিরের মানুষ ও যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মৃত পাখি সঠিকভাবে অপসারণ করতে হবে।

৭. আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার: অটোমেটিক ফিডিং ও ওয়াটারিং সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে। সেন্সর দ্বারা তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। CCTV ও মোবাইল অ্যাপ দিয়ে মনিটরিং করতে হবে।ডিজিটাল রেকর্ড কিপিং থাকতে হবে।

৮. জনবল ও প্রশিক্ষণ: প্রশিক্ষিত কেয়ারটেকার নিতে হবে।ভেটেরিনারি সাপোর্ট নিতে হবে। নিয়মিত ট্রেনিং ও আপডেট থাকতে হবে।

৯. বাজারজাতকরণ ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা: হ্যাচারি ও ফিড কোম্পানির সাথে চুক্তি করতে হবে। পাইকার, সুপারশপ ও প্রসেসিং কোম্পানির সাথে সংযোগ রাখতে হবে। কোল্ড চেইন ও পরিবহন ব্যবস্থা থাকতে হবে।

১০. পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: লিটার থেকে জৈবসার উৎপাদন করতে হবে।্বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট থাকতে হবে। দুর্গন্ধ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত জাত, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি আধুনিক পোল্ট্রি খামার গড়ে তোলা সম্ভব। এতে কম সময়ে বেশি উৎপাদন, কম খরচে লাভ এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা যায়। বাংলাদেশে পোল্ট্রি খাত অত্যন্ত সম্ভাবনাময়, তাই বিজ্ঞানভিত্তিক ও আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করলেই সফল উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *