মেয়ের জয়ে উচ্ছ্বসিত ‌‘থর’ অভিনেতা, অভিনন্দনের পাশাপাশি ট্রোলের বন্যা

সংবাদ তরঙ্গ ডেস্ক : হলিউড তারকা ক্রিস ক্রিস হেমসওয়ার্থের ঘর আলো করে রাখা মেয়ে ইন্ডিয়া রোজ হেমসওয়ার্থ এবার গড়েছে এক চমকপ্রদ রেকর্ড। সম্প্রতি পুরুষ প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে একমাত্র নারী প্রতিযোগী হিসেবে একটি রোমাঞ্চকর বুল রাইডিং (ষাঁড়ের পিঠে চড়ার) প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছে সে।  

মেয়ের এই রাজকীয় সাফল্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগাপ্লুত ও গর্বিত বার্তা শেয়ার করেছেন বাবা ক্রিস হেমসওয়ার্থ। তবে এই আনন্দ মুহূর্তেই ম্লান হয়ে গেছে নেটিজেনদের এক বিরাট অংশের চরম ক্ষোভ ও কড়া সমালোচনার মুখে।

মেয়ের জয়ের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ায় এবং এই খেলায় প্রাণীর ওপর নির্মম অত্যাচারের অভিযোগ তুলে অনেকেই এখন বিদ্ধ করছেন এই জনপ্রিয় অভিনেতাকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে বুধবার মেয়ের দুটি বিশেষ ভিডিও পোস্ট করেন ‘থর’ খ্যাত ৪২ বছর বয়সী এই অভিনেতা। ভিডিওতে দেখা যায়, ধুলোবালিময় রিংয়ের ভেতরে ক্ষিপ্ত ষাঁড়টি যখন তীব্র গতিতে লাফাচ্ছিল, তখনো অত্যন্ত শক্ত হাতে তার পিঠে আঁকড়ে ধরে রেখেছিল ইন্ডিয়া। প্রতিযোগিতায় নামার ঠিক পূর্বমুহূর্তে বাবার সঙ্গে মেয়ের একটি হালকা ও মজাদার কথোপকথনের দৃশ্যও ভিডিওতে তুলে ধরা হয়।

পোস্টের ক্যাপশনে মেয়ের অদম্য সাহসের প্রশংসা করে ক্রিস লেখেন, শুধু এটুকু বলতে চাই, আমার মেয়েটা আসলেই একটা অবিশ্বাস্য সাহসী ও অপ্রতিরোধ্য (স্যাভেজ)। পুরো প্রতিযোগিতার একমাত্র মেয়ে হয়েও ট্রফি নিয়েই ঘরে ফিরেছে সে। একজন বাবার জন্য এটি অত্যন্ত গর্বের মুহূর্ত।

তবে অভিনেতার এই পোস্ট প্রকাশের পর থেকেই নেটপাড়ায় বিপরীতমুখী প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

ভক্ত ও অনুরাগী থেকে শুরু করে সাধারণ নেটিজেনদের একটি বড় অংশ ইন্ডিয়ার সাহসিকতার প্রশংসা করলেও, আরেকটি অংশ ঘটনাটিকে পশুপাখির ওপর সহিংসতা হিসেবে দেখছেন। ক্ষুব্ধ এক ব্যবহারকারী মন্তব্যের ঘরে লিখেছেন, অসহায় ষাঁড়টির জন্য কষ্ট হচ্ছে। বিনোদনের নামে পশুপাখির প্রতি এমন নির্যাতন কখনো সমর্থনযোগ্য নয়। আরেক ব্যবহারকারী ঐতিহ্যবাহী এই খেলার নিষ্ঠুর দিকটি তুলে ধরে প্রশ্ন তুলেছেন, এটি কি সেই তথাকথিত ‘চমৎকার’ ঐতিহ্য নয়, যেখানে ষাঁড়ের অণ্ডকোষ দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয় এবং প্রতিবার শূন্যে লাফানোর সময় তারা সেটি আরও শক্ত করে টানে? আমি আন্তরিকভাবে আশা করি এখানে তেমন কিছু করা হয়নি। অন্য এক ব্যবহারকারী সরাসরি অনুরোধ জানিয়ে লিখেছেন, অনুগ্রহ করে এমন নির্দয় খেলা প্রচার করবেন না।এমনকি এক মার্ভেল ভক্ত ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে মন্তব্য করেছেন, আপনার কি এখন ডক্টর ডুমকে কীভাবে হারাবেন তা নিয়ে চিন্তা করা উচিত নয়?

হলিউডের সুখী দম্পতি হিসেবে পরিচিত ক্রিস হেমসওয়ার্থ এবং স্প্যানিশ অভিনেত্রী ও মডেল এলসা পাটাকি ২০১০ সালের ডিসেম্বরে একে অপরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। চলতি বছরে তাদের দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা দাম্পত্যজীবন পূর্ণতা পেয়েছে। এই তারকা দম্পতির ঘরে রয়েছে তিন সন্তান—২০১২ সালে জন্মগ্রহণ করা বড় মেয়ে ইন্ডিয়া রোজ হেমসওয়ার্থ এবং ২০১৪ সালে জন্ম নেওয়া দুই যমজ ছেলে সাশা ও ট্রিস্টান।  

ইন্ডিয়া রোজ পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তান হিসেবে ইতিমধ্যে বাবার সঙ্গে রুপালি পর্দাতেও পা রেখেছে। মার্ভেলের ‘থর: লাভ অ্যান্ড থান্ডার’ চলচ্চিত্রে তাকে একনজর দেখতে পেয়েছেন দর্শকরা। বাবা হওয়া প্রসঙ্গে বিভিন্ন সময় বেশ আবেগপ্রবণ ভাষায় ক্রিস জানিয়েছেন, সন্তান আসার পর তার জীবনের অগ্রাধিকার পুরোপুরি বদলে গেছে এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোকেই তিনি এখন সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেন।

অভিনয়েও বর্তমানে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন এই হলিউড তারকা। মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের আসন্ন কিস্তি ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ চলচ্চিত্রে তার ফেরা একপ্রকার নিশ্চিত, যা ইঙ্গিত দেয় যে ‘থর’ হিসেবে তার যাত্রা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তা ছাড়া দর্শকনন্দিত অ্যাকশন ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘এক্সট্রাকশন’-এর তৃতীয় কিস্তিতেও ফিরছেন ক্রিস হেমসওয়ার্থ। ইদ্রিস এলবা ও গোলশিফতে ফারাহানির সঙ্গে পুনরায় জুটি বেঁধে নতুন এক বিপজ্জনক মিশনে দর্শকদের এক টানটান উত্তেজনাময় অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *