খেলল বাংলাদেশ জিতল সিঙ্গাপুর

সংবাদ তরঙ্গ ডেস্ক : ফিফা আসিয়ান কাপে দুর্দান্ত ফুটবল খেলা উপহার দিয়েও পরাজয় রুখতে পারলেন না জামাল-হামজারা। গতকাল জাকার্তার গেলোরা বাঙ কর্নো স্টেডিয়ামে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। এই পরাজয়ে গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে গেল থমাস ডুলির দল। পরের ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে জিতলেও আর কোনো সুযোগ থাকবে না বাংলাদেশের।

আগামী ১ অক্টোবর ফিফা আসিয়ান কাপে ডিভিশন-১-এর এ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলেই বিদায় নেবে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা।

পরিসংখ্যান বলছে, গতকাল সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। বল দখলের লড়াইয়ে ছিল সমানে সমান। সিঙ্গাপুরের ৩টি কর্নারের বিপরীতে বাংলাদেশ কর্নার কিক নিয়েছে ১১টি।

তবে প্রতিপক্ষের গোলমুখে সুযোগ তৈরি করেও বারবার ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। কর্নার কিকগুলো কোনো কাজেই আসেনি। অথচ জামাল-হামজাদের আক্রমণাত্মক ফুটবল আশার সঞ্চার করেছিল বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। সেই আশা শেষ হয়েছে পরাজয়ের হতাশায়।

ম্যাচের প্রথম ২৫ মিনিটে বাংলাদেশের খেলায় প্রাণ ছিল, মাঝ মাঠে লড়াইটাও ছিল দুর্দান্ত। কিন্তু প্রতিপক্ষের অর্ধে আক্রমণে গিয়ে গুছিয়ে উঠতে পারেনি তারা। ১৭ মিনিটে প্রতি আক্রমণে বাংলাদেশের রক্ষণে বিপদ তৈরি হলেও কর্নারের বিনিময়ে গোল বাঁচান গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ। প্রথম কুলিং ব্রেকের কয়েক মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যায় সিঙ্গাপুর। ৩৫ মিনিটে বাম প্রান্ত দিয়ে নুর আদম আবদুল্লাহর ক্রসে দারুণ হেডে সিঙ্গাপুরকে এগিয়ে দেন হ্যারিস স্টুয়ার্ট।

কাছ থেকে আসা হেডে শ্রাবণ বলের দিকে তাকিয়ে থাকলেও গোল ঠেকাতে পারেননি।

দ্বিতীয়ার্ধ্বে ছিল বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ। একের পর এক আক্রমণে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স লাইনে বেশ কয়েকবারই ফাটল তৈরি করেন জামাল-সামিত-হামজারা। তবে গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। পরাজয়ের পরও কোচ তার শিষ্যদের নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে কোচ বলেন, ‘অবশ্যই আজ (গতকাল) আমরা গত ম্যাচের চেয়ে ভিন্ন একটি দল দেখেছি। খেলোয়াড়রা যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তাতে আমি খুবই আনন্দিত। আপনারা দলের খেলার ধরন দেখতে পেয়েছেন। আমরা ফুটবল খেলার চেষ্টা করেছি এবং আপনারা দেখতে পেয়েছেন খেলোয়াড়রা মাঠে কী করার চেষ্টা করেছে। ’ বিশেষ করে ম্যাচের শেষ দিকের ফুটবল নিয়ে কোচ কিছুটা আফসোসই করলেন। তিনি বলেন, ‘শেষ ২০ মিনিটে যদি আমাদের গোল করার সুযোগ কাজে লাগত, তবে হয়তো ফলাফল আমাদের পক্ষে আরও ইতিবাচক হতে পারত। সামিতের চমৎকার একটি সুযোগ ছিল, সে হেড মিস করেছে, তবে খেলোয়াড়দের প্রচেষ্টা খুব ভালো ছিল। তাই যেমনটা বলেছিলাম, গত ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের এমন প্রতিক্রিয়ায় আমি খুশি। ’

বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবল নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কোচ বলেন, ‘ফুটবলে মূল বিষয়টাই হলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশে আমাদের যে ঘরোয়া প্রতিযোগিতা রয়েছে, তা খুব বেশি বড় নয়। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর বা ইন্দোনেশিয়ার মতো লিগ আমাদের নেই। জাতীয় দলের ক্ষেত্রে টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য খুব কম সময় পাওয়া যায়। তাই আমাদের এমন খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করতে হয় যারা আন্তর্জাতিকভাবে বাইরে খেলছে এবং যাদের অভিজ্ঞতা বেশি। ’

এ টুর্নামেন্টে খেলে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতিই নিচ্ছে বাংলাদেশ। কোচ এ ব্যাপারে বললেন, ‘প্রস্তুতি ভালোই হয়েছে। আমাদের বুঝতে হবে আমরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছি। এই টুর্নামেন্টে খেলতে পেরে আমরা খুশি। কারণ এখানে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া কিংবা সিঙ্গাপুরের মতো দল রয়েছে, যারা সবাই র?্যাঙ্কিংয়ে আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। র?্যাঙ্কিং এমনি এমনি নির্ধারিত হয় না; তাই পার্থক্যের একটি বড় কারণ রয়েছে। আমরা এখানে সবাইকে হারিয়ে দিতে আসিনি, বরং নিজেদের ভুলগুলো চিহ্নিত করে তা থেকে শিখতে এসেছি। ’

দুই ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইন্দোনেশিয়া ম্যাচের জন্য শিষ্যদের কতটা প্রস্তুত করতে পারবেন থমাস ডুলি? কোচ বলছেন, ‘আজকের খেলায় আমরা অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ছিলাম এবং ফিফটি-ফিফটি লড়াইয়ে জয়ী হয়েছি। আমাদের হয়তো ইন্দোনেশিয়া বা মালয়েশিয়ার মতো মানের কোনো অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার নেই, যা তৈরি করতে সময় লাগবে। তবে দলের এই উন্নতিতে আমি খুশি। মালয়েশিয়ার কাছে হার থেকে শিখে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দল অনেক ভালো খেলেছে। আশা করি, ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচ থেকেও আমরা ইতিবাচক কিছু শিখতে পারব, যা আমাদের সাফে কাজে দেবে এবং ২০ বছর পর আবারও সাফ শিরোপা জয়ে ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *