প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক – রিনা হাসান

রায়হানা আক্তার রিনা, রিনা হাসান যিনি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক,সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আহসান উল্লাহ হাসানের সহধর্মিনী।

রিনা হাসান রাজনৈতিক জীবনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নিবেদিতপ্রাণ এক সংগ্রামী যোদ্ধা। ১৯৯৪ সালে তিনি ঢাকা মহানগর জাতীয়তাবাদী মহিলা দল পল্লবী থানার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি দক্ষতার সাথে এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা মহানগর মহিলা দল পল্লবী থানার সভানেত্রী নির্বাচিত হন এবং ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি যোগ্যতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রিনা হাসান তার রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনকালীন বারবার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের দ্বারা হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন। ২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ৭ থেকে ৮ টি মামলা দেয়া হয় এবং বিভিন্ন সময় তিনি এসব মামলায় কারাবরণ করেন।

আওয়ামী লীগের দ্বারা শুধু রিনা হাসানই মামলা ও জেল জুলুমের শিকার হননি, তার প্রয়াত স্বামী মরহুম আহসান উল্লাহ হাসানের বিরুদ্ধেও আওয়ামী লীগ সরকার ৮৭ টি নিপীড়নমূলক মামলা দেয়। রিনা হাসানের দুই সন্তান রায়হান হাসান সৌরভ ও মোহাম্মদ সাকিব হাসানকেও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে নিপীড়ণ করা হয়। আওয়ামী সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলে রিনা হাসানের পুরো পরিবার হামলা, মামলা, নিপীড়ন, নির্যাতন, জেল ও জুলুম ভোগ করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে রাজনীতিতে এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। সংবাদ তরঙ্গের পক্ষ থেকে সম্প্রতি রিনা হাসানের একটি একান্ত সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়, যা পাঠকের উদ্দেশ্যে হুবহু তুলে ধরা হলো।

সংবাদ তরঙ্গ: আপনি কেমন আছেন? দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ আপনি কিভাবে দেখছেন?

রিনা হাসান: আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। দেশের একজন নাগরিক হিসেবে দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবার মুক্ত জীবন ফিরে পেয়েছি। দেশে এখন ফ্যাসিজম নেই। আমার বা আমার স্বামী সন্তানের উপর যে অমানবিক রাজনৈতিক নিপীড়ন ছিল এখন কোন রাজনৈতিক নেতাকে তা ভোগ করতে হচ্ছে না। আমার নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সকল বক্তব্য পর্যালোচনা করলে দেখবেন তিনি দেশ এবং দেশের মানুষকে নিয়ে ভাবছেন, কাজ করছেন। তিনি সকল ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে নিজেকে এবং দলকে মুক্ত রেখেছেন।

সংবাদ তরঙ্গ: আপনার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিকল্পনা কি?

রিনা হাসান: রাজনীতি মানুষের কল্যাণে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ দেশ এবং এদেশের মানুষের কল্যাণে আজীবন কাজ করেছেন। তাঁদের যোগ্য উত্তরসূরী বিএনপি’র চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানও তাঁর পিতা মাতার নির্দেশিত পথে রাজনীতি করছেন। আমার বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্য সাধারন মানুষের সেবায়, মানুষের কল্যাণে নিজেকে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

সংবাদ তরঙ্গ: সংসদ সদস্য হতে চান?

রিনা হাসান : রাজনীতির মাধ্যমে মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছি। এ সেবার পরিধি আরো বিস্তৃত করতে চাই। একজন নির্যাতিত আদর্শিক কর্মী হিসেবে দল আকাঙ্খার জায়গা পূরণের সুযোগ দিলে অবশ্যই গ্রহণ করব।

সংবাদ তরঙ্গ: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে এসেছেন, প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?

রিনা হাসান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশে এসেছেন। সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে এদেশের মানুষের জন্য তিনি নেয়ামত এবং আশীর্বাদ হয়ে ফিরে এসেছেন বলে আমি মনে করি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন শুধু বিএনপির চেয়ারম্যান নন, তিনি ১৮ কোটি মানুষের আস্থার প্রতীক, ঐক্যর প্রতিক। তিনি এদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক। তিনি গণতন্ত্রের প্রতীক। তিনি মানুষের বাক স্বাধীনতার প্রতীক। তিনি উন্নয়ন অগ্রগতির প্রতীক। তিনি আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের প্রতীক। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষার প্রতীক। তিনি এদেশের আপামর জনতার ভালোবাসার প্রতীক।

সংবাদ তরঙ্গ: বিগত সরকারের শাসন শাসনামলে আপনি বা আপনার পরিবার মানুষের সেবায় কাজ করতে পেরেছে কি?

রিনা হাসান : ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমিসহ আমার পরিবারের সকল সদস্যকে গ্রেফতারী পরোয়ানা নিয়ে রাজনীতি করতে হয়েছে। আমরা সবকিছু উপেক্ষা করে করোনাকালীন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। জনাব তারেক রহমানের নির্দেশে আমার স্বামী আহসান উল্লাহ হাসান বিভিন্ন জায়গায় ত্রাণ বিতরণ করেন। মৃত্যুকে উপেক্ষা করে তিনি জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। অবশেষে তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে আমাদের কাছ থেকে চির বিদায় নেন। মৃত্যু হতে পারে জেনেও তিনি নেতার নির্দেশ পালন করেছেন। আমিসহ আমার পরিবারের অন্য সদস্যরা তার সাথে ত্রাণ কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছি তবুও নেতার নির্দেশ আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি।

সংবাদ তরঙ্গ: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশ থেকে চলে যাওয়াকে আপনি কিভাবে দেখছেন?

রিনা হাসান : শেখ হাসিনা তার কর্মফল ভোগ করেছেন। তিনি গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিলেন। আজ দেশে গণতন্ত্র মুক্তি পেয়েছে। জনগণ তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছে। একদলীয় শাসনের জুলুম থেকে মানুষ মুক্তি পেয়েছে। মানুষ স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে শুরু করেছেন। গুম কালচার থেকে দেশ রক্ষা পেয়েছে। জনগণ মুক্ত আকাশের নিচে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেয়ার সুযোগ পেয়েছে। এই নাগরিক অধিকার আদায়ের জন্য বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে।

সংবাদ তরঙ্গ: আপনার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য সংবাদ তরঙ্গের পক্ষ থেকে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

রিনা হাসান : আপনাকে ও সংবাদ তরঙ্গ পরিবারের সকলকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এবং বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *