ডক্টর এ এম জাহাঙ্গীর আলম
বেকারত্ব একটি সামাজিক ব্যাধি অথবা সংকট। ইংরেজি আনএমপ্লোয়মেন্ট (unemployment ) শব্দটি থেকে বেকারত্ব শব্দটি এসেছে। দেশের প্রচলিত মজুরিতে মানুষের কাজ করার ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যখন তাদের পর্যাপ্ত সুযোগ থাকে না, সেই পরিস্থিতিকে বেকারত্ব বলে। বেকারত্বকে এমন পরিস্থিতি হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে যখন একজন ব্যক্তি পড়াশোনা করেন না এবং কাজ করেন না। এই ব্যক্তির বয়স সাধারণত ১৫ বছর থেকে ৬৪ বছরের মধ্যে। এই ব্যক্তি খণ্ডকালীন বা ফ্রিল্যান্সার হিসাবে কাজ করছেন না। এই ব্যক্তি সক্রিয়ভাবে কাজ খুঁজছেন. একটি অর্থনীতি কতটা ভালো করছে তার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হল কম বেকারত্ব। বেকারত্বকে সাধারণত এমন পরিস্থিতি হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয় যখন একজন ব্যক্তি অধ্যয়ন করেন না এবং কাজ করেন না। দেশের উপর নির্ভর করে, এই ব্যক্তির বয়স ১৫ থেকে ৬৪ এর মধ্যে। এই ব্যক্তি খণ্ডকালীন কাজ করছেন না এবং তারা একজন ফ্রিল্যান্সার হিসাবে কাজ করছেন না। এই একই ব্যক্তি সক্রিয়ভাবে কাজ খুঁজছেন. বেকারত্ব হল একটি দেশের সমস্ত মানুষ সক্রিয়ভাবে কাজ খুঁজছেন কিন্তু একটি খুঁজে পাচ্ছেন না। কর্মসংস্থানের কারণগুলি নিম্নরূপ বেকারত্বের বিভিন্ন প্রকারের সাথে মোটামুটি মেলে।
বেকারত¦ কাঠামো: অর্থনীতি বা শ্রমবাজারের সমস্যাগুলি কাঠামোগত বেকারত্বের কারণ হতে পারে। নার্সদের জন্য সামান্য চাহিদা, উদাহরণস্বরূপ, নার্সদের মধ্যে বেকারত্বের কারণ হতে পারে। এটি ডাক্তার বা অন্যান্য চিকিৎসা কর্মীদের মধ্যে বেকারত্বের কারণ হতে পারে। অথবা নার্সদের প্রিয় কফি শপ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এটি শ্রমবাজারে একটি সমস্যা।
প্রযুক্তিগত পরিবর্তন কাঠামোগত বেকারত্বের কারণ। এটি অর্থনীতিতে একটি সমস্যা।
প্রযুক্তি এবং অটোমেশন- একটি প্রযুক্তিগত পরিবর্তন শিল্প প্রক্রিয়ায় মানুষের ভূমিকা হ্রাস করতে পারে। এই শিল্প প্রক্রিয়া, তাই, স্বয়ংক্রিয় হয়. প্রযুক্তি এবং অটোমেশন বেকারত্ব তৈরি করতে পারে।
প্রাতিষ্ঠানিক বেকারত্ব সরকার বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নীতি প্রাতিষ্ঠানিক বেকারত্বের কারণ হতে পারে।
ঘর্ষণজনিত বেকারত্ব-মানুষ এক চাকরি থেকে অন্য চাকরিতে চলে যাওয়াই ঘর্ষণজনিত বেকারত্বের কারণ।
চক্রীয় বেকারত্ব পন্য ও পরিষেবার কম চাহিদা চক্রাকারে বেকারত্বের কারণ হয়। একটি উদাহরণ হতে পারে অর্থনৈতিক মন্দা।
অর্থনৈতিক মন্দা-মন্দা উচ্চ বেকারত্ব, হ্রাস মজুরি এবং সুযোগ হারানোর দিকে পরিচালিত করে। শিক্ষা, ব্যক্তিগত পুঁজি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সবই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনৈতিক মন্দা জীবনযাত্রার মানকে হ্রাস করতে পারে। অনেকের কাছে অল্প টাকা আছে বা দীর্ঘদিন ধরে ঋণগ্রস্ত।
বেকারত্বের প্রভাব কী? উচ্চ বেকারত্ব অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ায় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষতি করে। বেকারত্ব অনেক কারণে উৎপাদনশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কর্মজীবী মানুষ উৎপাদনশীল। যখন তারা কাজ করে না, সমগ্র অর্থনীতি কম কার্যকর হয়। বেকাররা তাদের জমানো টাকায় জীবিকা নির্বাহ শুরু করে। ফলে তারা আরও দরিদ্র হয়ে পড়ে। এটি তারল্য সীমিত করে। অনেকের কাজ নেই, তাই কম নগদ চারপাশে ।এটি শ্রমের গতিশীলতাকে সীমাবদ্ধ করে।
ক) সামাজিক অবক্ষয়ঃ সামাজিক অবক্ষয় দূর করতে পারিবারিক মূল্যবোধনৈতিক শিক্ষা এবং ধর্মীয় অনুশাসনের চর্চা বাড়াতে হবে। মিথ্যা ও অপরাধের স্বাভাবিকীকরণ বন্ধ করে সততা ও পারস্পরিক বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। এছাড়া যুবসমাজকে সুস্থ সংস্কৃতিতে উদ্বুদ্ধ করাআইনের শাসন নিশ্চিত করা এবং পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করার মাধ্যমে এ ধরনের পতন রোধ করা সম্ভব ।
সামাজিক অবক্ষয় দূর করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপগুলো নিচে দেওয়া হলো: পারিবারিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ: সন্তানদের ছোটবেলা থেকে সততা ও নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়া। বাবা-মায়ের সাথে সন্তানের সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটানো । ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা: ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা এবং নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়াযা অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে । অপরাধের স্বাভাবিকীকরণ বন্ধ: “সবাই করছেতাই আমিও করছি” – এই মানসিকতা পরিহার করতে হবে। মিথ্যা এবং অন্যায়কে কোনোভাবেই স্বাভাবিক বা সাধারণ হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না । আইনের শাসন: আইনের কঠোর ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করাযাতে অপরাধীরা শাস্তি পায় । যুবসমাজকে সুস্থ সংস্কৃতিতে উদ্বুদ্ধকরণ: তরুণদের খেলাধুলাসাংস্কৃতিক চর্চা এবং ভালো কাজের সাথে যুক্ত রাখা। সততা ও বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা: সমাজ থেকে মিথ্যা দূর করে পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থা প্রতিষ্ঠা করা সামাজিক অবক্ষয় কোনো একক সমস্যার ফল নয়বরং এটি সমষ্টিগত নৈতিক পতন। তাই পরিবারের ছোট পর্যায় থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটি দূর করা সম্ভব। তথ্য প্রযুক্তির শিক্ষার মানোন্নয়নে উন্নত অবকাঠামোআধুনিক কারিকুলামশিক্ষকদের নিবিড় প্রশিক্ষণ এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা। স্মার্ট ক্লাসরুমই-লার্নিং প্ল্যাটফর্মএবং হাতে-কলমে প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববাজারের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এর ফলে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও গবেষণার সুযোগ প্রসারিত হবে । মানোন্নয়নের মূল পদক্ষেপসমূহ: আধুনিক অবকাঠামো: প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাবহাই-স্পিড ইন্টারনেট এবং মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর স্থাপন ।
খ) শিক্ষক প্রশিক্ষণ: শিক্ষকদের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে তুলতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং আইসিটি টুলস ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া । কার্যকর কারিকুলাম: তাত্ত্বিক জ্ঞানের চেয়ে ব্যবহারিক (practial) এবং প্রজেক্ট-ভিত্তিক শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া । ডিজিটাল কন্টেন্ট: আনন্দদায়ক এবং সহজবোধ্য ডিজিটাল কন্টেন্টঅ্যাপস এবং অনলাইন রিসোর্স (যেমন- DIKSHA, SWAYAM) ব্যবহার করা । ই-লার্নিং ও দূরশিক্ষা: দূরবর্তী শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ । নৈতিকতা ও নিরাপত্তা: আইসিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা এবং নৈতিক আচরণ (cyber Ethics) শেখানো । এই পদক্ষেপগুলো নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রথাগত শিক্ষার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবনী সমাজ তৈরি করা সম্ভব। তথ্য প্রযুক্তির শিক্ষার মানোন্নয়নে উন্নত অবকাঠামোআধুনিক কারিকুলামশিক্ষকদের নিবিড় প্রশিক্ষণ এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা নীতি। স্মার্ট ক্লাসরুমই-লার্নিং প্ল্যাটফর্মএবং হাতে-কলমে প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববাজারের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। এর ফলে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও গবেষণার সুযোগ প্রসারিত হবে। মানোন্নয়নের মূল পদক্ষেপসমূহ: আধুনিক অবকাঠামো: প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার ল্যাবহাই-স্পিড ইন্টারনেট এবং মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর স্থাপন শিক্ষক প্রশিক্ষণ: শিক্ষকদের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে তুলতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং আইসিটি টুলস ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া । কার্যকর কারিকুলাম: তাত্ত্বিক জ্ঞানের চেয়ে ব্যবহারিক (practial) এবং প্রজেক্ট-ভিত্তিক শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া । ডিজিটাল কন্টেন্ট: আনন্দদায়ক এবং সহজবোধ্য ডিজিটাল কন্টেন্টঅ্যাপস এবং অনলাইন রিসোর্স (যেমন- DiKSHA,SWAYAM) ব্যবহার করা । ই-লার্নিং ও দূরশিক্ষা: দূরবর্তী শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ । নৈতিকতা ও নিরাপত্তা: আইসিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা এবং নৈতিক আচরণ (Cyber Etics) শেখানো । এই পদক্ষেপগুলো নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রথাগত শিক্ষার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবনী সমাজ তৈরি করা সম্ভব।
গ) সরকারি স্কুল-কলেজগুলোর পাঠদানে অনিয়ম: সরকারি স্কুল-কলেজগুলোর অবস্থাও আজ কম সঙ্গিন নয়। জনগণের করের টাকায় শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অবকাঠামোগত সুবিধা দেওয়া হলেও বহু প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম কার্যত অকার্যকর। অন্যদিকে বেসরকারি স্কুল-কলেজগুলোতে শিক্ষাবাণিজ্য ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। নানান কৌশলে অভিভাবকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক চাপ ও নির্যাতন, কোচিং ও প্রাইভেট টিউশন-নির্ভর শিক্ষা সব মিলিয়ে শ্রেণিকক্ষের প্রাণবন্ত শিক্ষার পরিবেশ প্রায় বিলুপ্ত। এই বাস্তবতায় শিক্ষাব্যবস্থার সামগ্রিক চিত্র নিয়ে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হলে বহু অন্ধকার দিক দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে উঠত। দুঃখজনক হলেও সত্য, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়েও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অন্যায়-অনিয়ম উচ্ছেদের কার্যকর উদ্যোগ আমরা দেখতে পাইনি। শিক্ষা কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তাও যেন নীতিনির্ধারকদের অগ্রাধিকারের তালিকায় স্থান পায়নি। এরই মধ্যে শিক্ষা প্রশাসনে ঘুষ ও দুর্নীতির সিন্ডিকেটের অভিযোগ নতুন নয়। পাঠ্যপুস্তক বিতরণে প্রতি বছর বিলম্ব, থানা শিক্ষা অফিস থেকে শুরু করে আঞ্চলিক অফিস, শিক্ষা ভবন ও মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখায় ঘুষের অভিযোগ সব মিলিয়ে একটি প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ ১৩টি সংস্থায় এই সিন্ডিকেটের সক্রিয় উপস্থিতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ঘ) বেকারত্ব দূর করতে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন: উদ্যোক্তা হওয়া এবং প্রথাগত চাকরির বাইরে ফ্রিল্যান্সিং বা নিজস্ব ছোট ব্যবসার সুযোগ গ্রহণ করা জরুরী। নিজেকে জানাযুগের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন স্কিল শেখাএবং কাজের প্রতি আন্তরিক পরিশ্রমই এই সামাজিক সমস্যা সমাধানের মূল উপায় । বেকারত্ব দূর করার কার্যকর উপায়সমূহ: দক্ষতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ: প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরিআইটিফ্রিল্যান্সিংগ্রাফিক্স ডিজাইন বা কম্পিউটার চালনার মতো দক্ষতা অর্জন করুন । উদ্যোক্তা হওয়া (Self Employment ): চাকরির পেছনে না ছুটে ক্ষুদ্র পরিসরে ব্যবসা বা কৃষিভিত্তিক আত্মকর্মসংস্থান শুরু করা । অনলাইন ও ফ্রিল্যান্সিং: ঘরে বসে বিশ্ববাজারে কাজ করার জন্য ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মগুলো (যেমন- Fiverrupwork) ব্যবহার করা । নিজেকে জানা ও যাচাই করা: নিজের আগ্রহ ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের ক্ষেত্র খুঁজে বের করা । কাজের প্রতি আন্তরিকতা: ছোট-বড় কোনো কাজকেই ছোট মনে না করেধৈর্য ও সততার সাথে পরিশ্রম করা । নতুন জ্ঞান গ্রহণ: সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তির পরিবর্তন ও চাহিদার সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়া । বেকারত্ব একটি সামাজিক অভিশাপতাই মনোবল না হারিয়ে নিজের যোগ্যতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে ।
লেখক :ডক্টর এস এম জাহাঙ্গীর আলম সাবেক কর কমিশনার ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ন্যাশনাল এফ এফ ফাউন্ডেশন