সরকারকে সর্বশক্তি দিয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে হবে
দেশের জনসাধারণ ২০২৫ সাল নানা ঘটনা ও অঘটনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছে। বছরটিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন ছিল অতিষ্ঠ। শিক্ষা, খাদ্য, পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসহ দৈনন্দিন ব্যয়ভার বহন করা ছিল তাদের জন্য খুবই কষ্টসাধ্য। তাদের দুর্বিষহ জীবন থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তেমন উল্লেখযোগ্য কোন পদক্ষেপ নজরে আসেনি বলে সাধারণ মানুষ মন্তব্য করছে । জনসংখ্যা রপ্তানিতেও ছিল মন্দাভাব। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অঘোষিতভাবে ভিসা প্রক্রিয়া বন্ধ রেখেছে। বহু মানুষকে ভ্রমণ এবং চিকিৎসা ভিসা পেতে বেগ পেতে হয়েছে। অনেকে আবার ভিসা পাননি এমন বাস্তবতাও আছে বলে জনসাধারণ তাদের অভিমত প্রকাশ করছে । বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ২০২৫ সাল সুখকর ছিল না। বিদেশীরা আমাদের বিনিয়োগ বাজারে তেমন কোন বিনিয়োগ করেননি, ফলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি কমেছে রাষ্ট্রীয় আয়। প্রবাসীরা প্রাণপণ চেষ্টা করে রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন। যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় মোটামুটি ভালো ছিল। শ্রমশক্তি আশানুরুপ রপ্তানি করা গেলে রেমিটেন্সের পরিমাণ আরো বহুগুনে বেড়ে যেত। ফলে দেশে বাড়তো অর্থনৈতিক প্রবাহ। ইপিজেড, এয়ারপোর্ট ও মাইলস্টোনসহ বেশ কিছু বড় বড় দুর্ঘটনায় জাতীয় জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বছরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ছিল নাজুক। ৫ আগস্ট ২০২৪ এর পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রত্যাশা অনুযায়ী ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিচার বহি:ভূত হত্যাকান্ড বছরজুড়ে জনমনে ভীতি তৈরি করেছে। বলতে গেলে পুরো বছরজুড়ে জননিরাপত্তা ছিল চরম উদ্বেগের। বছরের শেষ প্রান্তে এসে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কেন্দ্র করে প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার পত্রিকা ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা স্বাধীন গণমাধ্যম সম্প্রসারিত হওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অন্তরায় বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এসকল অপ্রত্যাশিত ঘটনার পরেও ২০২৪ সালে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণাকে দেশের জনসাধারণ স্বাগত জানিয়েছে। জনসাধারণ আশা করছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তারা ভোট অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। নির্বাচনের অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষতা নিয়ে যেন কোন প্রশ্ন না উঠে দেশের জনগণ তাই কামনা করছেন। দেশের জনসাধারণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে একটি নির্বাচিত নতুন গণতান্ত্রিক সরকার বরণ করতে। পিছনের সকল ব্যর্থতা মুছে দিয়ে নতুন বছরে সরকারকে তার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে দেশ গভীর সংকটে পড়বে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বও বিপন্ন হবার আশঙ্কা তৈরি হবে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। কিন্তু নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য কতটুকু সহায়ক হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। এক্ষেত্রে নির্বাচনকে সর্বময় গ্রহণযোগ্য করে তুলতে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক সদিচ্ছার প্রমাণ দিতে হবে।