৪৫পেরিয়ে ধরে রাখুন তারুণ্য

সংবাদ তরঙ্গ ডেস্ক : তারুণ্য ধরে রাখতে চাইলে সঠিক খাদ্যাভাসের পাশাপাশি মেনে চলা চাই কিছু শারীরিক অনুশীলন। বলিউডের মালাইকা অরোরা থেকে আমাদের ঢালিউডের জয়া আহসানদের মতো তারকাদের ফিট থাকা নিয়ে নেটিজেনদের চর্চার শেষ নেই! এই তারকারা কী করেন, কী খান, কীভাবে জীবনচর্চা করেন—সে বিষয়ে সবারই আগ্রহ। মোটকথা, এই বয়সে তাদের তারুণ্যের রহস্য খুঁজে বের করতে যেন সবাই মরিয়া। তখনই প্রশ্নটা আসে, চল্লিশ পার হয়ে গেলেই কি তারুণ্য হারিয়ে যায়? প্রতিবছর ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টালেই বয়স একটা বছর বেড়ে যায়। আয়নার সামনে দাঁড়ালে চোখের কোণের ভাঁজটা সবার আগে চোখে পড়ে। নামীদামি প্রসাধনে চলে বয়স লুকানোর তরিকা। কিন্তু বয়স একটি সংখ্যা মাত্র। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুস্থ ও ফিট থাকাটাই আসল সৌন্দর্য। আজকে সৌন্দর্যের এক অনন্য গাণিতিক সমীকরণ নিয়ে কথা বলব, যা আমাদের চল্লিশের পরও তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করবে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তৈরি একটি বিশেষ ‘বিউটি ফর্মুলা’ সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সাড়া ফেলেছে। এই ফর্মুলা অনুযায়ী, ৪৫–ঊর্ধ্ব বয়সীদের সৌন্দর্যের সমীকরণটি হলো— সৌন্দর্য = [হরমোন + ঘুম + পুষ্টি + শরীরচর্চা] + [ত্বক + স্নায়ুতন্ত্র]—[মানসিক চাপ + প্রদাহ]

হরমোনের ভারসাম্য

আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ কারিগর হলো হরমোন। থাইরয়েড থেকে শুরু করে ইস্ট্রোজেন—এই সূক্ষ্ম রসায়নগুলো যখন ছন্দে থাকে, তখনই ত্বকে এক সহজাত আভা ফুটে ওঠে। তাই প্রতিবছর অন্তত একবার শরীরের হরমোন ও ভিটামিনের মাত্রা (যেমন থাইরয়েড, ইস্ট্রোজেন, ভিটামিন ডি, বি১২, রক্তের সুগার) পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া প্রয়োজন। তবে যেকোনো চিকিৎসা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে হতে হবে। মনে রাখবেন, ভেতরের ‘যন্ত্রপাতি’তে জং ধরলে বাইরের পলিশে কোনো কাজ হয় না।

ঘুমের প্রয়োজনীয়তা

ঘুমকে কেবল বিশ্রাম নয়, শরীর মেরামতের উপায় হিসেবে দেখুন।রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে বিছানায় যাওয়ার চেষ্টা করুন। দৈনিক ৭-৯ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন। শোবার ১ ঘণ্টা আগে ফোন বা ল্যাপটপ বন্ধ রাখুন। পর্যাপ্ত ঘুম মানেই শরীরের কোলাজেন বৃদ্ধি ও দ্রুত নিরাময়। পরিকল্পিত শরীরচর্চা সৌন্দর্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ।ছবি: প্রথম আলো

সঠিক পুষ্টি

পুষ্টির বিষয়ে কোনো আপস করা চলবে না। প্রোটিন: শরীরের ওজনের প্রতি কেজির জন্য ১ দশমিক ৬ থেকে ২ গ্রাম প্রোটিন নিন। প্লেটে খাবার সাজানোর ধরন: খাবারের থালার অর্ধেক অংশ সবজি, এক-চতুর্থাংশ প্রোটিন এবং বাকি অংশ জটিল কার্বোহাইড্রেট বা কমপ্লেক্স কার্ব দিয়ে পূর্ণ করুন চিনি ও অ্যালকোহল যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

শরীর চর্চা

পরিকল্পিত শরীরচর্চা সৌন্দর্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সপ্তাহে ৩ দিন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম বা স্ট্রেন্থ ট্রেনিং যেমন স্কোয়াট বা ডেডলিফট করুন। এই ব্যায়াম আপনার মাসল টোন বাড়াবে। জয়েন্টের ব্যথা ও ইউরিনারি সমস্যা কমাবে। ত্বকে রক্ত চলাচল বাড়বে, ফলে টানটান ভাব বজায় থাকবে। সপ্তাহে ২ দিন অন্তত ১০-১৫ মিনিটের হালকা কার্ডিও করুন।

ত্বকের যত্ন

ত্বকের যত্নে খুব সাধারণ কিন্তু কার্যকর রুটিন মেনে চলুন। সকালে এসপিএফ-৩০ সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। রাতে হালকা ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে রেটিনয়েড এবং নিয়াসিনামাইড ব্যবহার করতে পারেন। এগুলো ত্বকের নমনীয়তা ধরে রাখে।

স্নায়ুতন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ

আজকের যান্ত্রিক জীবনে মানসিক চাপ এক নীরব ঘাতক। প্রতিদিন কয়েক মিনিট গভীর শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম, নির্জনে বসে থাকা কিংবা মুঠোফোন দূরে রেখে প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন—এগুলো আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখবে। প্রশান্ত মন মানেই কোঁচকানো কপালের রেখা থেকে মুক্তি।

ছোট পদক্ষেপেশুরু

এক দিনে সব পরিবর্তনের চেষ্টা না করে ধারাবাহিকতায় মনোযোগ দিন। ৯০ দিনের একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। ওজন, ঘুমের সময় এবং ল্যাব টেস্টের রিপোর্টগুলো নিয়মিত ট্র্যাক করুন। মনে রাখবেন, সৌন্দর্য কোনো অলৌকিক বিষয় নয়, এটি আপনার প্রতিদিনের অভ্যাসের ফসল। আয়নায় নিজেকে দেখুন পরম মমতায়। ৪৫ পরবর্তী জীবন হোক এক নতুন শুরু, যেখানে প্রসাধন নয়, সুশৃঙ্খল জীবনই হবে আপনার প্রধান অলঙ্কার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *